advertisement
advertisement

ভারতীয় বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন এসএনএ চার্জ, আর্থিক চাপ বাড়ার শঙ্কা


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ভারতীয় বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন এসএনএ চার্জ, আর্থিক চাপ বাড়ার শঙ্কা

প্রতিকি ছবি

advertisement

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খরচ আরও বাড়তে চলেছে। কারণ এখন থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত ০.০০৫ ভারতীয় রুপি চার্জ দিতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এই অঙ্ক ছোট হলেও, বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির ফলে এর বিশাল আর্থিক প্রভাব দেশের ওপর পড়বে।

 

এই নতুন চার্জ যুক্ত করতে ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর মধ্যে ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ)’ চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগের কাছে এই চুক্তি সংক্রান্ত মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তি করতে দেরি হলে এনভিভিএন-এর মাধ্যমে আসা ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে সংকট তৈরি হতে পারে।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, প্রথমে ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে ০.০১ রুপি চার্জ প্রস্তাব করেছিল। তবে পিডিবির অনুরোধে তা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি নির্ধারণ করা হয়। নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারত একই হারে চার্জ আদায় করছে। ভারত জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউল তৈরি, মিটার থেকে তথ্য সংগ্রহ, হিসাব মেলানো এবং গ্রিড পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ করতেই এই নতুন চার্জ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশ বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে সর্বাধিক ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এনভিভিএন-এর মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা হয়। তাছাড়া বেসরকারি খাতে পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চুক্তি রয়েছে। এই ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যই মূলত এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে, ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ড কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পৃথক চুক্তি রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, আদানির সাথে চুক্তিতে আগে থেকেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি উল্লেখ থাকায় তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে এসএনএ চুক্তির কোনো প্রয়োজন হবে না।

 

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে বিদ্যুতের মূল দামের পাশাপাশি অনেক সময় হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জও দিতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চার উৎস (আদানি, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্প) থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে, যার মূল মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

 

এর মধ্যে আদানির ৮০৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুতের পেছনেই সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি এনভিভিএন-কে ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়াকে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পকে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এনভিভিএন-এর বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা হুইলিং চার্জও দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট খরচ হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

 

এখন এর সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এসএনএ চার্জ। ইউনিটে ০.০০৫ রুপি সামান্য মনে হলেও বার্ষিক শত শত কোটি ইউনিট আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে, যা এসএনএ চার্জ বাবদ ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর