দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারি সেবাপ্রাপ্তির
প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এনেছে
সরকার। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক
অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)-কে বিলুপ্ত
করে এই তিনটির সমন্বয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ইনভেস্ট বাংলাদেশের ভেরিফায়েড
ফেসবুক পেজ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “আমরা এখন ইনভেস্ট
বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ
(বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) এখন থেকে একটি একক প্রতিষ্ঠান।”
বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ-সমন্বিত পথ
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ
আইন, ২০২৬’ কার্যকর হওয়ার মধ্য
দিয়েই নতুন এই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর সাথে সাথেই আগের বিডা,
বেজা ও পিপিপিএ তাদের অস্তিত্ব হারিয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা হলো, তিনটি ভিন্ন ভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে একটিমাত্র সমন্বিত কর্তৃপক্ষের অধীনে সব কাজ পরিচালিত হলে বিনিয়োগকারীদের
নিবন্ধন, অনুমোদন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা পাওয়া এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের মতো সরকারি
সেবাগুলো পাওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সিঙ্গেল ফ্রন্ট
ডেস্ক’ বা একক যোগাযোগকেন্দ্র
তৈরি করা এই নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম একটি লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়
ও সংস্থার মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় করে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সেবা প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের
প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিডার সাবেক নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস
ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, দীর্ঘকাল ধরে বিনিয়োগকারীরা একটি একক ফ্রন্ট
ডেস্কের দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ইনভেস্ট বাংলাদেশকে একটি একক যোগাযোগ
পয়েন্টে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেন কোনো ধরনের
হয়রানি ছাড়া সুসংহত ও নির্ভরযোগ্য সেবা পান, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি
সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যার প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। তবে সরকারের পূর্বানুমোদন
নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শাখা কার্যালয় এবং দেশের বাইরে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপনের
সুযোগও থাকবে।
কর্তৃপক্ষটি পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যানের
পাশাপাশি সাতজন সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।
নতুন এই ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চৌধুরী আশিক
মাহমুদ বিন হারুন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রচার চালানো, সম্ভাব্য বিনিয়োগের খাতগুলো খুঁজে বের করা,
বিনিয়োগের পথে থাকা বাধাগুলো অপসারণ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সাথে
নিবিড় সমন্বয় করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর পাশাপাশি বিলুপ্ত বিডা, বেজা এবং পিপিপিএ-এর
বিদ্যমান যাবতীয় সম্পদ, নথিপত্র, চুক্তি, দায়-দেনাসহ অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের
কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই তিনটি সংস্থার বর্তমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এখন থেকে
ইনভেস্ট বাংলাদেশের অধীনে কাজ করবেন।
সরকারের এই তিন সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগের
পেছনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা
এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে একদম সহজবোধ্য করে তোলা।
এর আগে গত ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন,
২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত
ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।