advertisement
advertisement

বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় পাল্টাপাল্টি শুল্কযুদ্ধ, মার্কিন পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় পাল্টাপাল্টি শুল্কযুদ্ধ, মার্কিন পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: রয়টার্স

advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর এবার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন পণ্যে শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শনিবার এই ঘোষণা দিয়ে জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, ইলেকট্রনিকসসহ আরও কিছু পণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক কার্যকর করা হবে।

 

কয়েক দিন ধরে নিবিড়ভাবে চলার পর গত শুক্রবার রাতে কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা। এর পরপরই কানাডীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করে। ফলে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ দুটির সম্পর্ক এখন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের মুখে পড়েছে কানাডীয় ওয়াইন, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত সামগ্রী, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার ছিপ থেকে শুরু করে হকি সরঞ্জাম পর্যন্ত নানা ধরনের পণ্য। হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পণ্য শুল্কের আওতাভুক্ত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এতদিন ধরে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কল্যাণে কানাডার বেশিরভাগ পণ্যই যুক্তরাষ্ট্রে বিনা শুল্কে প্রবেশের সুবিধা পেয়ে আসছিল।

 

অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলন করে মার্ক কার্নি বলেন, কানাডার সাধারণ পরিবার, কৃষক, শ্রমিক এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের সমপরিমাণ এই পাল্টা শুল্ক বসানো হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শর্তগুলো কানাডার অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ অন্যায় এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কানাডার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালির নানা সামগ্রী, কৃষি সরঞ্জাম, মণ্ড, কাগজ এবং ইলেকট্রনিকসের ওপর শুল্ক বসানো হবে। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র যেসব কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক চাপিয়েছিল, তার কয়েকটির জবাবেও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

মার্ক কার্নি আরও বলেন, বাণিজ্য আলোচনার একদম শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু নতুন শর্ত জুড়ে দেয়, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। এর মাঝে কানাডা ভবিষ্যতে যাতে নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি করতে না পারে, তেমন শর্তও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, কানাডা পাল্টা শুল্ক বসালে যুক্তরাষ্ট্রও তার জবাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তিনি দাবি করেন, কানাডার সামনে আরও একটি ভালো বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে কানাডার সাথে আর আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি জানান।

 

কানাডা তার সার্বিক রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠায়। দেশটিতে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এই নতুন শুল্কের জালে আটকা পড়বে। বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে কানাডার নরম কাঠ এবং ওয়াইন শিল্পের ওপর। এর জেরে বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ারও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন যে, মার্কিন শুল্কের কারণে যেসব শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হবে। একই সাথে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে এনে নতুন নতুন বাণিজ্য ও সামরিক অংশীদার খোঁজারও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

 

জানা যায়, চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে গাড়ি শিল্পের ভূমিকাও কম নয়। কানাডার দাবি ছিল, হালকা যানবাহনের জন্য যে শুল্ক সুবিধা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা মাঝারি ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রেও দেওয়া হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি না হওয়ায় কানাডায় উৎপাদিত বড় মডেলের ট্রাকগুলোর সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।

 

এছাড়াও কার্নি জানান, কানাডার নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাবে তাদের তীব্র আপত্তি ছিল। তবে আপত্তিকর সেই প্রস্তাবগুলো ঠিক কী ছিল, তা তিনি পরিষ্কার করেননি।

 

কানাডার এই পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তিটি মেনে নিলে তা কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পের জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হতো।

 

এদিকে, কানাডার কর্মসংস্থান ও ব্যবসা বাঁচাতে দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভ্রে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর