advertisement
advertisement

যানজট নিরসনে এআই ক্যামেরার পর এবার ড্রোন নামাচ্ছে ডিএমপি


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ২:৫২ পূর্বাহ্ণ
যানজট নিরসনে এআই ক্যামেরার পর এবার ড্রোন নামাচ্ছে ডিএমপি

এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি

advertisement

রাজধানী ঢাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স যুক্ত করতে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর আগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরা যুক্ত করার পর এটি তাদের নতুন একটি পদক্ষেপ। বাসস পরিবেশিত এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

জানা গেছে, প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলক ধাপে একটি ড্রোন ব্যবহার করে রাজধানীর যানজটপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো থেকে রিয়েল টাইম ডেটা বা তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গকারী গাড়ি শনাক্ত করা, তাদের সতর্ক করা এবং ড্রোনের সঙ্গে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) সংযুক্ত করে ভিডিও দেখে মামলা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমপির। এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সম্প্রতি ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান ডিএমপি সদর দপ্তরে গণমাধ্যমের কাছে এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।

 

তার মতে, বিশ্বের অনেক দেশে ড্রোন সার্ভিলেন্স থাকলেও এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা। তিনি জানান, প্রায়শই ফ্লাইওভার বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েগুলোতেও যানজট লেগে থাকে, যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন সার্ভিলেন্স থাকলে রিয়েল টাইম তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাফিক পুলিশ সহজে নির্দেশনা দিতে পারবে। এছাড়া ড্রোনে এএনপিআর যুক্ত হলে ভিডিওর ভিত্তিতে মামলা দেওয়াও সহজ হবে।

 

ঢাকার বাসের নৈরাজ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজে না থামার প্রধান কারণ হলো চুক্তিতে বাস চালানোর প্রথা। মালিকরা দৈনিক চুক্তিতে শ্রমিকদের কাছে বাস ভাড়া দেন, ফলে বাসের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকে না। সারাদিনের জমার টাকা তোলার জন্য বাসচালকরা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামেন এবং যাত্রী ছাউনির বদলে যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে পেছনের রাস্তা ব্লক করে দেন।

 

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময় ও স্টপেজ মেনে বাস চলে। কিন্তু আমাদের দেশে এই প্রতিযোগিতার কারণে ঢাকার বাসগুলোর গায়ে এত দাগ পড়ে যায় যে, দেখতে বসন্ত রোগীর মুখের মতো লাগে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ই-টিকিটিং সিস্টেম এবং বাস রুট রেশনালাইজেশন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই চুক্তিভিত্তিক নৈরাজ্য ও জনগণের ভোগান্তি শেষ হবে না।

 

ড্রোন কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে তিনি বলেন, ড্রোনগুলোতে শব্দ বা ভয়েসের ব্যবস্থা থাকবে। কেউ যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোনের মাধ্যমেই তাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে। ড্রোনের মাধ্যমে নিয়ম ভাঙলে মামলা দেওয়া যাবে এবং সার্বিক ট্রাফিক পরিস্থিতি নজরে রাখা যাবে। বর্তমানে একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে তাদের একটি ড্রোন দিয়েছে এবং এটি নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। দ্রুতই এটি নিয়ে মাঠে নামার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 

রিয়েল টাইম ডেটা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি সম্ভব। তবে ইন্টারনেট ও সার্ভারভিত্তিক এই কাজের জন্য স্পেস ও অবকাঠামো দরকার, যার পেছনে নিয়মিত অর্থ খরচ হবে।

 

ড্রোনের মামলা প্রক্রিয়া নিয়ে আনিছুর রহমান জানান, প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, তাই আপাতত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়া হবে না। ফুটেজগুলো ম্যানুয়ালি যাচাই-বাছাই করেই মামলা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য বেশি মামলা দেওয়া নয়, বরং মানুষকে ট্রাফিক আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করা।

 

ড্রোন চালনার প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানান, এটি একটি কারিগরি কাজ, তাই ইতোমধ্যে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগের সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহ থেকে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

 

নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন যেকোনো কিছুতেই শুরুতে কিছুটা সময় লাগে। তারা প্রথমে এআই ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটিমোট ১৫টি সিগন্যালকে এআইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। কিছু সমস্যা থাকলেও মানুষ ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হচ্ছে। ড্রোনের বেলাতেও এটি পরীক্ষা করে দেখা হবে, তবে এর কোনো নেতিবাচক দিক পাওয়া গেলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বাতিল করা হবে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর