advertisement
advertisement

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৯ রক্তপরীক্ষা সম্পর্কে জেনে


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৯ রক্তপরীক্ষা সম্পর্কে জেনে

advertisement

হৃদ্‌রোগ অনেক সময়ই শরীরে নীরবে বাসা বাঁধে। তাই হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা জানাই যথেষ্ট নয়। শরীরের প্রদাহ, হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ কিংবা রক্তে শর্করা ও চর্বির মাত্রাও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আগাম সংকেত দিতে পারে।

 

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চিকিৎসকেরা রোগীর বয়স, বংশগত ইতিহাস, ওজন, রক্তচাপ ও আগের অসুস্থতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রক্তপরীক্ষা করাতে বলেন। তবে সবার জন্য সব পরীক্ষা প্রযোজ্য নয়।

 

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে সহায়ক ৯টি পরীক্ষা নিচে আলোচনা করা হলো:

 

১. অ্যাপোলাইপোপ্রোটিন বি: এটি রক্তে এমন কিছু কণিকার সংখ্যা পরিমাপ করে, যা ধমনিতে চর্বি জমতে সাহায্য করে। সাধারণ এলডিএল পরীক্ষার সাথে এই পরীক্ষাটি করলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়।

 

২. লাইপোপ্রোটিন-এ: বংশগত কারণে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকলে এই পরীক্ষাটি ধারণা দিতে পারে। শরীরে এই প্রোটিনের মাত্রা বেশি হলে এবং পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকেরা এটি করানোর পরামর্শ দেন।

 

৩. এইচএস-সিআরপি (হাই-সেনসিটিভিটি সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন): এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে প্রদাহের মাত্রা জানা যায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে এটি অন্যান্য শারীরিক তথ্যের সাথে মিলিয়ে বিচার করতে হয়।

 

৪. ফাস্টিং ইনসুলিন: খালি পেটে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা পরিমাপ করে শরীর ইনসুলিনের প্রতি কতটা সাড়া দিচ্ছে তা বোঝা যায়। এটি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের একটি ধারণা দেয়।

 

৫. হিমোগ্লোবিন এ১সি: এই পরীক্ষাটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে গত ২-৩ মাসের গড় শর্করার মাত্রা জানা যায়, যা বেশি থাকলে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

 

৬. ওমেগা-৩ ইনডেক্স: লোহিত রক্তকণিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা সম্পর্কে জানতে এই পরীক্ষা করা হয়। যদিও এটি হৃদ্‌রোগের নিয়মিত বা সাধারণ কোনো পরীক্ষা নয়।

 

৭. ট্রাইগ্লিসারাইড ও এইচডিএল অনুপাত: বিপাকীয় স্বাস্থ্য বোঝার জন্য রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও এইচডিএল-এর মাত্রার অনুপাত হিসাব করা হয়। তবে ঝুঁকি নির্ধারণে রক্তে শর্করার মাত্রাও বিবেচনায় নিতে হয়।

 

৮. ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি কম থাকার সাথে হৃদ্‌রোগের কিছু সম্পর্ক গবেষণায় পাওয়া গেলেও, ঘাটতি থাকলেই হৃদ্‌রোগ হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

৯. এনটি-প্রোবিএনপি: হার্ট ফেইলিউর বা হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর বাড়তি কোনো চাপ পড়ছে কিনা, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকেরা এই পরীক্ষাটি করে থাকেন।

 

পরিশেষে, শুধু দু-একটি রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা ঠিক নয়। ওজন, রক্তচাপ, ধূমপানের অভ্যাস, কোলেস্টেরল এবং পারিবারিক ইতিহাস মিলিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শমতো পরীক্ষাগুলো করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর