advertisement
advertisement

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর মার্কিন ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন বিচারক


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর মার্কিন ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন বিচারক

ছবি: এপি

advertisement

বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতিকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছেন মার্কিন আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিনেট ভার্গাস তার দেওয়া রায়ে বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে নিজের আইনি ও সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ার অতিক্রম করেছেন। আল জাজিরার খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

ম্যানহাটনের বিচারক ভার্গাস তার রায়ে এই নীতিটিকে স্পষ্টভাবে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করে জানিয়েছেন যে, এটি দেশটির ফেডারেল অভিবাসন আইনের পরিপন্থী। কারণ, আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করার একচ্ছত্র অধিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়নি। রায়ে উল্লেখ করা হয়, আবেদনকারীর জাতীয়তা বা নাগরিকত্বের ওপর ভিত্তি করে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা প্রদান বন্ধ করার এই উদ্যোগ বিদ্যমান আইনি কাঠামোর চরম লঙ্ঘন।

 

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে নিযুক্ত বিচারক ভার্গাস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা দুটি সংগঠন—‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং ‘আফ্রিকান কমিউনিটিস টুগেদার’—এর পাশাপাশি ভুক্তভোগী আবেদনকারী ও তাদের স্বজনদের দায়ের করা এক মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কার্যকর হওয়া এই ভিসা স্থগিতাদেশের তালিকায় ছিল লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া; দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ; এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক অনুদান ও সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর হয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছেন।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনকালে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার দোহাই দিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়ার ওপর ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো মনে করে, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব সিদ্ধান্ত মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সঠিক আইনি সুরক্ষার অধিকারকে দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করেছে, যা বর্ণগত বৈষম্যের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

মার্কিন আদালতের এই রায়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর