advertisement
advertisement

মিরপুরে উচ্ছেদস্থল পরিদর্শনে বিরোধীদলীয় নেতা: জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে টেকসই সমাধানের তাগিদ


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
মিরপুরে উচ্ছেদস্থল পরিদর্শনে বিরোধীদলীয় নেতা: জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে টেকসই সমাধানের তাগিদ

জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

advertisement

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করার বড় উচ্ছেদ অভিযানে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হলে তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

 

জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ও টেকসই সমাধান:

ডা. শফিকুর রহমান জানান, মিরপুরের ওই এলাকায় ১৫ ও ১৬ নম্বর নির্বাচনী আসন রয়েছে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব তাঁদের। এত বড় একটি পদক্ষেপে তাঁদের যুক্ত করা হলে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যেত না বলে তিনি মত দেন। ভবিষ্যতে যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি জানান, রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে গ্রাম থেকে আসা যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সেখানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হন, তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও সরকারের দায়িত্ব। এদের জন্য নির্দিষ্ট ও স্বস্তিদায়ক স্থান নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেন তিনি, যার ফলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং সিটি করপোরেশনেরও রাজস্ব আয় বাড়বে।

 

সহিংসতার নিন্দা ও প্রশাসনের প্রতি বার্তা:

উচ্ছেদ চলাকালে সরকারি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যানবাহনের কোনো দোষ নেই এবং জনগণের করের টাকায় কেনা সম্পদ ধ্বংস করা অনুচিত। তিনি সংঘাত এড়িয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানের সময় তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে স্থানীয় একটি মসজিদের গুদামের মালামাল পুড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারকে এই ক্ষতির বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসন ভালো কাজ করলে জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা পাবে, কিন্তু তারা যদি ফ্যাসিবাদী কায়দায় জালিমের ভূমিকা নেয় বা অন্যায়ের পক্ষ নেয়, তবে জনগণ তা রুখে দাঁড়াবে। পরিশেষে প্রশাসনকে তিনি দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন নীতি কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর