advertisement
advertisement

আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনার অপেক্ষায় রাশিয়া, পুতিনের সেনা বাড়ানোর নতুন নির্দেশ


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনার অপেক্ষায় রাশিয়া, পুতিনের সেনা বাড়ানোর নতুন নির্দেশ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ছবি: রয়টার্স

advertisement

ইউক্রেন যুদ্ধ প্রলম্বিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবারের এক প্রেসিডেনশিয়াল আদেশে তিনি সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা আরও ১৫ হাজার ৫০০ জন বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৫০ হাজারে নির্ধারণ করেন। এতে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মোট সৈন্যসংখ্যা দাঁড়াবে ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৩০ জনে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ায় আগে থেকেই ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনাকে সেখানে পাঠানোর জন্য প্রশিক্ষণ ও বাছাইপর্ব চলছে।

 

গত বছর পুতিন ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে যাওয়া কোরীয় সেনাদের বীর বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব বলছে, ২০২৪ সাল থেকে কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৫ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

 

রণক্ষেত্রে মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং অন্য এলাকায় একটি অনাবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে সোমবার জেলেনস্কি জানান যে, দেশজুড়ে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। চলমান এই রক্তপাত বন্ধ করতে পোপ লিও রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স সফর শেষে ফেরার পথে তিনি বলেন, ১৪০ কোটি ক্যাথলিকের চার্চের পক্ষ থেকে বিশ্বশান্তি ও মানবজীবনের প্রতি সম্মান জানাতে নেতাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বলা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।

 

ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ সোমবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে, জার্মানিতে ড্রোন উদ্ধার ও ডেনমার্কের হেলিকপ্টারে ফ্লেয়ার ছোড়ার মতো রুশ নাশকতা বৃদ্ধি পেলেও, তা ইউরোপীয় দেশগুলোর ইউক্রেন-সমর্থন টলাতে পারছে না। তবে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি জানিয়েছেন, বিদেশি মিত্রদের সহায়তা পেতে দেরি হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে তাঁরা সরকার পুনর্গঠনসহ বেশ কিছু প্রকল্পের ব্যয় আপাতত স্থগিত রাখছেন এবং শুধু জরুরি খাতে অর্থ ছাড় দিচ্ছেন।

 

অর্থনৈতিক ফ্রন্টেও রাশিয়ার পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রুশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় জার্মান খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেট্রো এজির রাশিয়ার সম্পদ সাময়িক প্রশাসনের অধীনে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ২০২৩ সালের একটি ডিক্রির অধীনে 'অবন্ধুসুলভ' দেশগুলোর ওপর নেওয়া এই পদক্ষেপের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ আদেশে উল্লেখ করা হয়নি, তবে এর আগে ফরাসি প্রতিষ্ঠান অশাঁ ও নেসলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল মস্কো।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর