ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। ফাইল ছবি
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে সপ্তম
শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার নেপথ্যে ছিল আইফোনের লোভ। ছবি
তোলা আর টিকটকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সাত দিন আগে এই হত্যার পরিকল্পনা
করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তার লাশ উদ্ধার করা হলে দেশজুড়ে
চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯)
এবং দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে
এই পূর্বপরিকল্পিত হত্যার ভয়ংকর বিবরণ তুলে ধরেছে।
হত্যার পরিকল্পনা ও টিকটকের ফাঁদ:
জবানবন্দিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হত্যার
পরিকল্পনা, ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া এবং হামলার বিষয়ে আসামিদের বক্তব্যে ব্যাপক মিল রয়েছে।
তুহিনের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে তাদের পরিচয় ছিল এবং তারা টিকটক
করার জন্য একসঙ্গে বের হতো। ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সামনে অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোর ও তুহিনের মধ্যে আইফোন হাতিয়ে নেওয়া এবং
অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। দোকানে কর্মরত কিশোর পরিকল্পনার দায় তুহিনের ওপর চাপিয়ে
দিলেও তৃতীয় কিশোর জানিয়েছে যে তাকে আইফোন বিক্রি করে টাকার ভাগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই বয়সের ব্যবধানকে ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
কোদালের হাতল দিয়ে নির্মম আঘাত:
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার পর
ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে সানন্দা পশ্চিমপাড়ার নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যান তুহিন। সেখানে
দুই কিশোরও উপস্থিত হয়। আড্ডার একপর্যায়ে দোকানে কর্মরত কিশোর অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে
তুহিনকে দেয়। ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হলে তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড়
মারেন এবং পরে কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। বাকি দুই কিশোরের জবানবন্দিতেও প্রথম
আঘাতকারী হিসেবে তুহিনের কথাই উঠে এসেছে।
ঘটনার পর খুনিদের ‘নাটক’ ও তদন্ত:
হত্যার পর আইফোন নিয়ে তুহিন এক দিকে এবং বাকি
দুজন অন্য দিকে চলে যায়। তুহিন জানান, হত্যার পরই তিনি তাঁর বন্ধু সিয়ামকে (১৯) ডেকে
সব কথা খুলে বলেন এবং সিয়াম আগে থেকেই পরিকল্পনার কথা জানতেন। পরে সিয়ামকে তথ্য গোপনের
দায়ে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
হত্যার পরদিন তুহিন ও সিয়াম অপ্রতিমকে খোঁজার
অভিনয় করেন এবং ওই দুই কিশোর ফেসবুকে শোক জানিয়ে স্ট্যাটাস দেয়। তবে পুলিশের তৎপরতায়
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। অপ্রতিমের বাবার করা
হত্যা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাইয়ের
পাশাপাশি আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে। এই নির্মম ঘটনার পূর্ণ সত্য
প্রকাশ এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন অপ্রতিমের পরিবার ও কুমিল্লার সাধারণ
মানুষ।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।