advertisement
advertisement

সার্বিয়ায় ছাত্র-জনতার ক্ষোভের জয়: প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেন আলেকজান্ডার ভুচিচ


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
সার্বিয়ায় ছাত্র-জনতার ক্ষোভের জয়: প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেন আলেকজান্ডার ভুচিচ

সংগৃহীত ছবি

advertisement

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের টানা এক বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও তীব্র গণ-অসন্তোষের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। রোববার রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদের বাইরে সমবেত সমর্থকদের ভাষণে তিনি জানান, বিগত নয় বছর তিনি দেশে শান্তি ও সংহতি বজায় রেখেছিলেন। এর আগে গত জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।

 

রেল স্টেশন দুর্ঘটনা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ:

ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির দীর্ঘ শাসনামলে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সার্বিয়ার মানুষের অসন্তোষ তুঙ্গে ওঠে ২০২৪ সালে। ওই বছর দেশটির নোভী সাদ রেল স্টেশনের ছাদ ভেঙে ১৬ জন নিহত হন। বিরোধীদের দাবি ছিল, এই দুর্ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সরকারের এক দশকের দুর্নীতি ও চরম গাফিলতিরই ফল। এরপর ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ নামিয়ে দমন-পীড়ন চালানো হলে ক্ষোভ আরও তীব্র হয় এবং সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।

 

রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও নির্বাচনী সমীকরণ:

প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর দেশটির সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। অক্টোবরের শেষ দিকে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনের কিছুদিন পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানে তৃতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের সুযোগ না থাকায় ভুচিচ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক কষছেন। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা বুঝে নিয়েছেন প্রগ্রেসিভ পার্টির নেত্রী ও পার্লামেন্ট স্পিকার আনা ব্রনাবিচ।

 

বিতর্কিত ক্ষমা ও বিরোধীদের প্রস্তুতি:

ক্ষমতা হস্তান্তরের ঠিক আগে ভুচিচ বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং দলীয় নেতাসহ ৪৯ জন অভিযুক্তের সাজা মওকুফ করেন। আসন্ন নির্বাচনে ভুচিচের দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’। ২০১৪ সাল থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ভুচিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে মৈত্রী এবং চীনা বিনিয়োগের জন্য সার্বিয়ার অর্থনীতিকে উন্মুক্ত রাখার বহুপাক্ষিক কূটনীতির চর্চা করতেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর