advertisement
advertisement

গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয় নীতি শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয় নীতি শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

advertisement

পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে এসে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ। শনিবার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নতুন এই মানদণ্ড অনুমোদনের ফলে নতুন গাড়ির দাম কমবে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন এবং পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি একে আমেরিকার গাড়ি-শিল্পের কর্মীদের জন্য একটি বড় বিজয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 

সংকটকালীন সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব:

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমেরিকানরা যখন ব্যয়ের চাপে রয়েছেন, ঠিক তখনই এই নীতি শিথিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিবহন বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন মানদণ্ডে প্রতিটি নতুন গাড়ির দাম গড়ে ৯৩০ ডলার কমবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব হবে নেতিবাচক। বিভাগটি সতর্ক করেছে যে, এর ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে জ্বালানি খরচ ১০০ বিলিয়ন গ্যালন এবং জ্বালানি বাবদ ব্যয় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৫ শতাংশ বাড়বে।

 

লক্ষ্যমাত্রার পরিবর্তন:

বাইডেন প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ মডেলের গাড়ির জন্য বছরে ৮ শতাংশ, ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ এবং ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের জন্য ২ শতাংশ হারে দক্ষতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল। তখন লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি গ্যালনে ৫০.৪ মাইল বা লিটারে ২১.৪ কিলোমিটার।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত ডিসেম্বরে প্রস্তাব দেয় যে, ২০২২ মডেলের মানদণ্ড কমানোর পর ২০৩১ সাল পর্যন্ত তা বছরে মাত্র ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে। নতুন প্রস্তাবে ২০৩১ সালের মধ্যে জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে প্রতি গ্যালনে ৩৪.৫ মাইল (লিটারে ১৪.৭ কিলোমিটার) নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সমালোচনা ও পূর্ববর্তী প্রশাসনের লক্ষ্য:

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ গাড়ি নির্মাতাদের কম জ্বালানি-দক্ষ গাড়ি বিক্রিতে সুবিধা দেবে। এই নীতির সমালোচনা করে বাইডেন মেয়াদের পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগ মন্তব্য করেছেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ চীনের হাতে তুলে দিচ্ছেন এবং দেশের জনগণকে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বাইডেন প্রশাসন মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতায় পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর