ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
কাতারি
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো হরমুজ প্রণালি খোলা এবং সংঘাত অবসানের একটি শান্তি
প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর তেহরান
তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস
আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনা থেকে উত্তরণের
একমাত্র উপায় হলো কূটনৈতিক আলোচনা।
শান্তি
প্রস্তাব ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
গত
সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইরান এই শান্তি প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে
আনে। আরাগচি শুক্রবার জানিয়েছিলেন, চুক্তিতে প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময়সীমা
এবং আঞ্চলিক সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধের শর্ত রয়েছে। তবে শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন যে,
ইরান বর্তমানে ব্যাপক চাপে রয়েছে এবং শোচনীয়ভাবে হারতে থাকায় চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে
উঠেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুযায়ী, ইরান তাদের দাবি মানবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প
সন্দিহান এবং নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের
সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেননি। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ
করায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং ট্রাম্প দাবি করেছেন জলপথটি
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই আছে।
চূড়ান্ত
বার্তার অপেক্ষায় তেহরান:
ট্রাম্পের
এমন দাবির পরও আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব
প্রত্যাখ্যানের কথা এখনো তেহরানকে জানানো হয়নি। তারা চূড়ান্ত বার্তার অপেক্ষায় রয়েছেন
এবং তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া
সম্পূর্ণভাবে ইরানের শর্তগুলো পূরণের ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এর আগে,
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে
আখ্যা দিয়েছিলেন এবং ইরান সৌদি আরবের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছে।
পরমাণু
কর্মসূচিতে আপস নয়:
যুক্তরাষ্ট্র
রাজি হলে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিলেও ইরানের
এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, শান্তি চুক্তি হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ
বা তা বিদেশে পাঠানোর মতো পরমাণু ইস্যুতে তেহরান কোনো আপস করবে না। সিবিএস নিউজের অনুষ্ঠানে
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন যে, তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও
হুমকি বা জবরদস্তির কাছে মাথা নত করবে না এবং আক্রান্ত হলে নিজেদের রক্ষা করবে।
যুদ্ধ
ও বৈশ্বিক প্রভাব:
গত
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সাত মাসের এই যুদ্ধ
থামাতে এখন পর্যন্ত সব কূটনৈতিক চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে এবং বারবার যুদ্ধবিরতি ও নতুন
হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ইরানের অর্থনীতি
ও প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধটি বর্তমানে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে
পড়েছে; ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর এবং ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের
ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।