advertisement
advertisement

জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে বাজারে ‘লুটপাট’, তদারকির অভাবে ভোক্তার নাভিশ্বাস


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে বাজারে ‘লুটপাট’, তদারকির অভাবে ভোক্তার নাভিশ্বাস

advertisement

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। দাম বৃদ্ধির চার দিন পার হলেও বাজার এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন। বাজারে আসা ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, জ্বালানির অজুহাতে প্রায় সব পণ্যের দাম ইচ্ছামতো বাড়ানো হচ্ছে এবং বাজারে এক ধরনের ‘লুটপাট’ চলছে। পরিবহন ব্যয় সামান্য বাড়লেও ভোক্তার ঘাড়ে বিশাল খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

পরিবহন ব্যয় বনাম খুচরা বাজারের চিত্র:

গত ২০ সেপ্টেম্বর লিটারে ২০ টাকা করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারির সঙ্গে খুচরা বাজারের বিস্তর তফাৎ। কারওয়ান বাজারের চালের আড়তে বগুড়া থেকে ট্রাকভাড়া দুই হাজার টাকা বাড়ায় ৫০ কেজির বস্তায় খরচ বেড়েছে মাত্র ১০ টাকা, অথচ খুচরা বাজারে মোটা চাল কেজিতে ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে, যশোর থেকে আনা বেগুনের ট্রাকভাড়া ৩ হাজার টাকা বাড়ায় কেজিতে খরচ বাড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু খুচরায় সেই বেগুন ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা হয়ে গেছে। কুমিল্লার পাঙাশ মাছের ব্যাপারীদেরও একই অভিযোগ, কেজিতে ২ টাকা খরচ বাড়লেও খুচরা বিক্রেতারা তা ১০-২০ টাকা বাড়িয়ে ক্রেতার পকেট কাটছেন।

 

বাজার তদারকিতে সমন্বয়ের অভাব:

বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরসহ পাঁচ সংস্থা দাবি করছে, তারা দেশজুড়ে তদারকি ও অভিযান জোরদার করেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত চার দিনে সারা দেশে ১৬৩টি টিম ৩১১টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রীও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন।

তবে ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানিয়েছেন, তদারকি চললেও সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই, ফলে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। মাত্র ৬টি টিম দিয়ে ঢাকার দুই কোটি মানুষের বাজার নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরী জানান, সাধারণ মানুষের আয় না থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে এবং গবেষণার অভাবে সরকারি মনিটরিং কোনো কাজে আসছে না।

 

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম:

খুচরা বাজারের সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগের ১০০ টাকার কাঁচামরিচ এখন ১৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা এবং পটোল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ডিমের ডজন ১৬৫ টাকা, মসুর ডাল ৯৫-১০০ টাকা, খোলা আটা ৫০ টাকা, খোলা পাম অয়েল লিটারে ১৭০ টাকা এবং সাধারণ তেলাপিয়া মাছ ২৫০-২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর