বিগত
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করেছেন
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, ওই ফ্যাসিস্ট সরকারের
আমলে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে, যার ৯৯ শতাংশেরই
বাদী ছিল পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন
কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গুম-খুন
ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি:
আইনমন্ত্রী
তাঁর বক্তব্যে বিগত ১৭ বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন:
ক্রসফায়ারের
নামে বিনা বিচারে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক
পরিচয়ের কারণে ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত আমলের সন্ত্রাসী
নেতাকর্মীরা নিষ্ঠুরতার সব সীমা পার করেছিল এবং বর্তমানে তারা সারা দেশে পলাতক রয়েছে।
দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে; নতুবা
তা ভীরুতার শামিল হবে। বর্তমান সময়ে পুলিশ আর গায়েবি বা রাজনৈতিক মামলা করছে না বলেও
আশ্বস্ত করেন তিনি।
মাদক
প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের ডাক:
মাদক
নির্মূলকে কেবল জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে এটিকে সামাজিক
ব্যাধি হিসেবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার
মানুষকে এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’
নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই অপরাধে নিজ দল বিএনপির কেউ জড়িত
থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
কর্মসূচি
ও উপস্থিতি:
দিনব্যাপী
সফরের অংশ হিসেবে আইনমন্ত্রী সকালে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের সঙ্গে
মতবিনিময় করেন এবং বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দুপুরের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের এমপি মাওলানা
মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি আব্দুল আলিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার
শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ
নাছের রিকাবদারসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।