advertisement
advertisement

সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে তুমুল হট্টগোল, অশালীন গালাগালের অভিযোগ


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে তুমুল হট্টগোল, অশালীন গালাগালের অভিযোগ

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

advertisement

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনাকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ ও হট্টগোল হয়েছে। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করায় বিএনপির সংসদ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একাদশ সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য থাকা রুমিন ফারহানার দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্য করে সংসদে অশালীন গালিগালাজ করা হয়েছে।

সংসদে যা বলেছিলেন রুমিন ফারহানা:

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন বলেন:

“বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সারকারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।”

“বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না।”

“বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া।”

 

তিনি আরও বলেন, “এই সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি।”

 

সংলাপ, গালাগালের অভিযোগ ও সমর্থন:

সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলের জবাবে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে আওয়ামী লীগের আমলের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা... এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।”

মাইক বন্ধ হওয়ার পরও তিনি কথা চালিয়ে যান এবং গালিগালাজের অভিযোগ তুলে স্পিকারের অনুরোধের পরও দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর সমর্থনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে গালি দেওয়া যায় না।

 

ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও চিফ হুইপের প্রতি বার্তা:

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সভাপতির চেয়ারে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তিনি চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে বলেন, “একজন সম্মানিত সদস্য কথা বলতে পারবেন, অসংসদীয় হলে সেটা এই চেয়ার থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে। কিন্তু সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা ঠিক না। আর চিফ হুইপ হিসাবে আপনার মূল দায়িত্ব হাউসের শৃঙ্খলা রাখা।” এরপর তিনি স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আলোচনার জন্য ডাকেন।

 

অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া:

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান: তিনি বলেন, “উনি কি গালি দিলেন না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন?”

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি: তিনি জানান, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মাত্র কয়েক দিন আগেই রুমিন বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন। নিজে সমস্যা তৈরি করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: পুরো বিষয়টিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি তো বিষয় কী, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

অধিবেশনের পর সংবাদমাধ্যমের (নিজস্ব প্রতিবেদক) কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানা জানান, বিএনপির সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং তিনি চিফ হুইপের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর