advertisement
advertisement

রেমিট্যান্স স্থানান্তরে উচ্চ ব্যয়: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ৭-৮ শতাংশই যাচ্ছে ফি ও মাশুলে


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্স স্থানান্তরে উচ্চ ব্যয়: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ৭-৮ শতাংশই যাচ্ছে ফি ও মাশুলে

ছবি: সংগৃহীত

advertisement

অর্থনীতি ডেস্ক:

প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশের তালিকায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স স্থানান্তরের খরচ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গড় ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি। লেনদেনের এই উচ্চ ব্যয়ের (গড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশ) কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রবাসীরা।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও তুলনামূলক চিত্র:

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) তাদের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের ডেটার ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

  • প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে রেমিট্যান্স স্থানান্তরে সর্বোচ্চ ব্যয় হওয়া দেশগুলোর অর্ধেকই স্বল্পোন্নত দেশ।
  • এর মধ্যে বেনিন এবং অ্যাঙ্গোলায় অর্থ পাঠানোর খরচ সবচেয়ে বেশি।
  • অন্যদিকে, এলডিসিভুক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও লাও পিডিআর ও হাইতিতে এই খরচ তুলনামূলক কম।

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্বল্প আয়ের অভিবাসীরা:

প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভ ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু স্থানান্তরের উচ্চ ফি ও মুদ্রার বিনিময় হারের বড় ব্যবধানের কারণে ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠানো স্বল্প আয়ের অভিবাসীদের প্রকৃত প্রাপ্তি কমে যাচ্ছে। ফলে এই আয়ের পুরোপুরি সুফল দেশের অর্থনীতিতে পৌঁছাচ্ছে না।

ডিজিটাল রূপান্তরই সমাধানের পথ:

রেমিট্যান্স পাঠানোর এই ব্যয় কমিয়ে আনতে এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস), ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে ইউএনসিটিএডি। সংস্থাটি আফ্রিকার উদাহরণ টেনে জানিয়েছে, সাব-সাহারান আফ্রিকায় মোবাইল মানির ব্যবহার অভাবনীয় হারে বেড়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে ২০২১ সালে এই সেবার ব্যবহার ছিল ২৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, প্যান-আফ্রিকান পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম (পিএপিএসএস) ব্যবহার করে আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের ব্যয় এবং বিদেশি ক্লিয়ারিং হাউসের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি ইউএনসিটিএডির মূল সুপারিশ হলো—ডিজিটাল অবকাঠামো ও তথ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স স্থানান্তরের এই অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ডিজিটাল সেবা রপ্তানি বাড়াতে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রয়োজন।

 

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর