ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
রাজধানীর
আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস কিংবা বিআরটিএ কার্যালয়ের আশপাশের কম্পিউটারের দোকানগুলোতে
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে। কেউ নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে, কেউ তথ্য সংশোধন
বা মোটরযান নিবন্ধনের ফি অনলাইনে জমা দিতে এসেছেন। দেশে চারজনের মধ্যে তিনজন মানুষ
পড়তে ও লিখতে জানলেও, কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা অনলাইন
ফরম পূরণে তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিচ্ছেন।
সাক্ষরতার
হার বনাম ডিজিটাল সক্ষমতা
অর্থনৈতিক
সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার ছিল
৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ (২০২২ সালে ছিল ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ)। এর মধ্যে পুরুষদের হার ৮০ দশমিক
১ শতাংশ এবং নারীদের ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু সাক্ষরতার এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে মানুষের
ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার কোনো মিল নেই।
বাংলাদেশ
পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি অ্যাক্সেস অ্যান্ড ইউজ বাই হাউসহোল্ডস অ্যান্ড
ইন্ডিভিজুয়ালস সার্ভে ২০২৪-২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী দেশের ডিজিটাল বৈষম্য ও ব্যবহারের
চিত্র নিম্নরূপ:
কম্পিউটার
বনাম মোবাইল: দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ (ব্যক্তিগত মালিকানা
৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ)। অথচ কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইন্টারনেট
ও আঞ্চলিক বৈষম্য: সার্বিকভাবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে এ ক্ষেত্রে ৩২ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্টের বড় ব্যবধান রয়েছে
(শহরে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ, গ্রামে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ)।
অনলাইনে
মানুষের বিচরণ: গত তিন মাসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরির
খোঁজ করেছেন, ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ খেলাধুলার তথ্য খুঁজেছেন এবং ১১ দশমিক ৬ শতাংশ পণ্য
বা সেবা কিনেছেন।
দক্ষতা
ও বাধা: ব্যবহারকারীদের ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ কপি-পেস্ট করতে জানেন। তবে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ
উত্তরদাতা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহের কারণ হিসেবে এর ‘উচ্চ খরচ’ বা দামকে চিহ্নিত
করেছেন।
ইন্টারনেটের
দাম ‘জলের মতো সস্তা’ করতে হবে
ডিভাইসের
প্রাপ্যতা ও খরচের বিষয়টিকে সামনে এনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ
উল বারী বলেন, “বর্তমান সময়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য ইন্টারনেটের দাম আরও কমিয়ে আনতে
হবে। ইন্টারনেটের দাম জলের মতো সস্তা করতে হবে।” তিনি আরও জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য,
কৃষি ও বাজারব্যবস্থায় ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য শুধু সংযোগ সম্প্রসারণ নয়, নির্ভরযোগ্য
ও উচ্চগতির ইন্টারনেটও প্রয়োজন।
এ
বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, “সাক্ষরতার
কার্যক্রমকে শুধু পড়া ও লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। বর্তমান এআই বিপ্লবের
সময়ে ডিজিটাল স্কিলও জীবনদক্ষতার অংশ।” তিনি নিরক্ষরতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি ও পাঁচ
বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রান্তিক পরিবারগুলোকে আয়-উৎপাদনমূলক কাজে সম্পৃক্ত
করার পরামর্শ দেন।
দক্ষতাভিত্তিক
সাক্ষরতা ও সরকারের লক্ষ্য
প্রাথমিক
ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “সাক্ষরতা শুধু পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে
পারার সক্ষমতা নয়, এর সঙ্গে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
জড়িত।” তিনি জানান, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত
করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
ঝরে
পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে:
‘স্কিল
ফোকাসড লিটারেসি ফর আউট অব স্কুল অ্যাডোলেসেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারে পাইলট
ভিত্তিতে ৬ হাজার ৮২৫ জনকে ১৩টি পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দেশের
৫৮টি জেলার সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ১৫-২৪ বছর বয়সী ৪ হাজার ৪৪০ জন ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে
ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।