ছবি: রয়টার্স
নরওয়ের উত্তর
মেরু অঞ্চল থেকে নিজেদের প্রথম মানববিহীন রকেট ‘স্পেকট্রাম’ সফলভাবে মহাকাশে
পাঠিয়েছে জার্মানির স্টার্টআপ ‘ইসার অ্যারোস্পেস’। শনিবারের এই সফল উৎক্ষেপণের
মধ্য দিয়ে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইটের
রেকর্ড তৈরি হলো। এর ফলে নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে স্যাটেলাইট পাঠানোর বৈশ্বিক
প্রতিযোগিতায় এক ধাপ এগিয়ে গেল ইউরোপ।
মিশনের সাফল্য
ও ইউরোপের উচ্ছ্বাস:
মহাকাশ
অভিযানের বিশাল বাজারে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করতে ইউরোপের
দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল এই স্পেকট্রাম রকেট। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বার্তায় ইসার অ্যারোস্পেস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে
লেখে, “আমরা কক্ষপথে পৌঁছে গেছি! এবং এইমাত্র ইউরোপীয় ইতিহাস তৈরি করেছি।”
উৎক্ষেপণের সময় ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোড বহনের উপযোগী এই রকেটটি পাঁচটি ছোট
স্যাটেলাইট এবং বিশেষ একটি ইন-ফ্লাইট প্রযুক্তিগত পরীক্ষা বহন করে।
বাভারিয়াভিত্তিক কোম্পানিটি জানিয়েছে, শনিবারের উৎক্ষেপণটি মূলত ‘রকেটের মিশন ও
পেলোড বহনকারী প্রথম ফ্লাইট’ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পূর্ববর্তী
মিশন ও বর্তমান অর্জন:
এটি ছিল
স্পেকট্রাম রকেটের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ। ১৮ মাস আগে (মার্চ ২০২৫) একই সাইট থেকে প্রথম
রকেটটি উৎক্ষেপণের পরপরই বিস্ফোরিত হয়ে সাগরে পড়েছিল। তবে সে ঘটনায় কোনো হতাহত
হয়নি এবং প্রকৌশলীদের জন্য পর্যাপ্ত উপাত্ত (ডেটা) সংগ্রহ করতে পারায় ইসার ওই
মিশনটিকেও সফল হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
ভূ-রাজনৈতিক
গুরুত্ব ও মহাকাশ কূটনীতি:
মার্কিন
নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মহাকাশ কার্যক্রমে আরও
স্বাবলম্বী করার অংশ হিসেবে এটি একটি বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। এই ভূ-রাজনৈতিক
গুরুত্ব অনুধাবন করেই গত মার্চে নরওয়ের আন্দ্রোইয়া স্পেসপোর্ট পরিদর্শন করেছিলেন
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। এ বিষয়ে নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি
মিরসেথ এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা এখন আন্দ্রোইয়া থেকে সরাসরি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ
করতে পারছি, যা বর্তমান বৈশ্বিক অস্থির সময়ে নরওয়ে ও সার্বিক ইউরোপীয় নিরাপত্তাকে
আরও বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলল।”
প্রতিযোগিতামূলক
বাজার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
বর্তমানে
বৈশ্বিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারে প্রধান নিয়ন্ত্রক ইলন মাস্কের স্পেসএক্স (যা
গত জুনে নাসডাক এক্সচেঞ্জে রেকর্ড আইপিও নিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছে) এবং এয়ারবাস ও
সাফ্রানের যৌথ উদ্যোগে গড়া ফরাসি কোম্পানি ‘অ্যারিয়ানগ্রুপ’ (যারা দক্ষিণ আমেরিকার
ফ্রেঞ্চ গায়ানার স্পেসপোর্ট ব্যবহার করে)। তবে ইউরোপকে স্বাবলম্বী করার এই দৌড়ে
ইসার অ্যারোস্পেসের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে সুইডেনের ‘এসরেঞ্জ’
কেন্দ্র এবং ব্রিটেনের স্কটল্যান্ডস্থ সাক্সাভর্ড স্পেসপোর্ট। এই প্রতিযোগিতায়
নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়াতে গত সপ্তাহেই ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির কাছ থেকে প্রায় ২৩
কোটি ২০ লাখ ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে ইসার। একই সঙ্গে কানাডায় নিজেদের দ্বিতীয়
উৎক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।