টেলিযোগাযোগ খাতের নতুন খসড়া নীতিমালা নিয়ে দেশীয় উদ্যোক্তাদের আপত্তি, ছবি: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ গ্রাফিক্স
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ খাতে
বিদেশি বিনিয়োগের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। তবে নতুন এই নীতিমালায় বৈষম্যের
শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ দাবি
করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
খসড়া নীতিমালার উল্লেখযোগ্য দিক:
প্রস্তাবিত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং
পলিসি, ২০২৬’-এর খসড়া অনুযায়ী,
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব
দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি মূলধনের পরিমাণ সর্বোচ্চ
৯০ শতাংশ পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। এর বাইরে অবকাঠামো ভাগাভাগি, নতুন লাইসেন্স
কাঠামো এবং একাধিক স্তরে বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলোও নতুন নীতিমালায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দেশীয় উদ্যোক্তা ও কর্তৃপক্ষের পাল্টাপাল্টি
অবস্থান:
দেশীয় উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বিএনপি সরকারের
আনা নতুন এই নীতিমালায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তারা নতুন
নীতিমালাকে আগের চেয়ে উন্নত বললেও, কোনো ধরনের বৈষম্য না রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আইএসপিএবি স্পষ্ট জানিয়েছে, আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত
নয়। বিপরীতে বিটিআরসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত
রাখতেই এই খাতে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
নীতিমালা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট:
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টেলিযোগাযোগ
খাতের নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাদের করা খসড়ায় থানা ও আইএসপি লাইসেন্স
বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে ছোট আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু
করে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার সেটি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি
সরকার ওই খসড়ায় আরও কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিয়ে এখন নতুন করে দেশীয়
উদ্যোক্তারা আপত্তির কথা জানাচ্ছেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।