advertisement
advertisement

৩০ বছর আগের খুনের আসামির এমন রিমান্ডে খুশি নই: সালমান শাহর মা


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
৩০ বছর আগের খুনের আসামির এমন রিমান্ডে খুশি নই: সালমান শাহর মা

সালমান শাহ ও নীলা চৌধুরী। ছবি: কোলাজ

advertisement

সালমান শাহ হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি আশরাফুল হক ডনের রিমান্ড নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য থেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এই রিমান্ড তাঁদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এটি ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার চার দিনের রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

রিমান্ডের মেয়াদ ও ডনের ‘উৎফুল্ল’ আচরণ:

আদালতের পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশের পর ৬ সেপ্টেম্বর ডনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়, যদিও শুরুতে সাত দিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র চার দিন পর তাকে কারাগারে পাঠানো নিয়ে নীলা চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “যাঁর কাছে সব তথ্য রয়েছে, সেই আসামির সঙ্গে এটা কেমন রিমান্ড হলো, বুঝলাম না।” রিমান্ড শেষে ডনের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন রিমান্ডে নেওয়ার সময় তাকে বিমর্ষ দেখা গেলেও, রিমান্ড শেষে সে অত্যন্ত উৎফুল্লভাবে হেঁটে বের হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “রিমান্ডফেরত কেউ ওভাবে হাঁটে না।” ডন অসুস্থ থাকায় রিমান্ড বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, রিমান্ডে অসুস্থতার কোনো অজুহাত বা মাফ নেই।

কী তথ্য বেরিয়ে এল, জানতে চান বাদী:

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে রিমান্ডের আপডেট জানতে চেয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেন নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন, ডন ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে জড়িত, এটা নতুন কিছু নয়। বরং সে কীভাবে হত্যা করেছে এবং কার স্বার্থে করেছে—রিমান্ডে সেই তথ্য বের করা উচিত ছিল। তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তিনি তাঁর ভাইকে ডনের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার এবং নিজে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকার দাবি জানান।

মামলায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ:

দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন, “শুরু থেকে ডন-সামিরাসসহ সব আসামি যুক্ত। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, এই মামলায় এখনো ডন ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। এতে প্রমাণিত হচ্ছে, আমাদের প্রশাসন দুর্বল অথবা ধাবিত হচ্ছে।” কেউ এই মামলাকে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যাঁকে ধরা হয়েছে, তাকে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই অসুস্থ বলে ছেড়ে দিল। ডনকে রিমান্ডে নেওয়া, অসুস্থতা, গতকাল রিমান্ড শেষে উৎফুল্লভাবে হেঁটে যাওয়া—সবই ফানি মনে হচ্ছে।” তিনি দেশের মানুষের কাছে সত্যের বিচার চেয়ে কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারির আহ্বান জানান।

 

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর