ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে ডেভিড এস ম্যাক সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে বক্তব্য দিচ্ছেন। ১৪ আগস্ট ২০২৬ ছবি: রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রকে
নিজেদের পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এর বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘অত্যন্ত নিকৃষ্ট’ দেশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির
কারণে সামনে জ্বালানি তেলের মূল্য আরও বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি মার্কিন নাগরিকদের এর
জন্য প্রস্তুত থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরান
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও, এখন পর্যন্ত
কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর স্পষ্ট আভাস মেলেনি। এর মধ্যেই কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
শনিবার
ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী
কাজেম গরিবাবাদি বলেন, "এই প্রণালি খোলা বা বন্ধ করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের
নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং, আপনারা যতদিন না পর্যন্ত পরাজয়ের বাস্তবতাকে মেনে
নিচ্ছেন এবং অলীক কল্পনার জগতে বসবাস করা বন্ধ করছেন, ততদিন ইরান এই অবরোধ চালিয়ে যাবে।"
তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, "কেবলমাত্র একটি টুইট করে, বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে,
কোনো ফরমান জারি করে কিংবা নির্বাচনী মাঠে বক্তৃতা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের
হাতে নেওয়া যায় না।"
এদিকে,
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরান এখনও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি
বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম
'শাহরারা নিউজ'-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে পুনরায়
জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিতে
হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে
পেট্রোলের মূল্যে ২৯ শতাংশ উল্লম্ফন
যুদ্ধ
শুরু হওয়ার আগে বিশ্বব্যাপী সরবরাহকৃত মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশই এই হরমুজ প্রণালি
দিয়ে পরিবাহিত হতো, যা এখন পুরোপুরি অচল অবস্থায় রয়েছে। ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাতের
জেরে মার্কিন জনগণকে পেট্রোলের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
গত
শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি বলেন, "যদি
সামান্য বাড়তি দাম দেওয়ার বিনিময়ে একটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন
করা থেকে বিরত রাখা যায়, তবে পেট্রোলের জন্য এইটুকু বাড়তি খরচ করাটা সার্থক।"
ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর পেছনে ট্রাম্প যেসব যুক্তি দাঁড় করাতে চান, এটি
তার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি যুক্তি। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) দেওয়া
তথ্যমতে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক
০৮ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি।
নিজের
দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারণায় পেট্রোলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড
ট্রাম্প। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দাম কমার বদলে উল্টো অনেকটা বেড়ে গেছে। এর
ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে চরম
হতাশা তৈরি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পড়ার প্রবল আশঙ্কা
রয়েছে।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।