advertisement
advertisement

মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ার মারা গেছেন


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ার মারা গেছেন

advertisement

হলিউডের সুপরিচিত মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ার আর নেই। ‘হিরোস এবং ‘ন্যাশভিল-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজের এই তারকা রবিবার মাত্র ৩৬ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষাদময় খবরটি নিশ্চিত করা হলেও, তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

 

মেয়ের অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হেইডেনের বাবা স্কিপ প্যানেটিয়ার এক শোকবার্তায় জানান, হেইডেন ছিলেন এক অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি কেবল তাঁর কাছের মানুষদেরই নয়, বরং নিজের অভিনয়ের জাদুতে অগণিত দর্শকের জীবনেও আনন্দ বয়ে এনেছিলেন। এই কঠিন ও শোকাবহ সময়ে তিনি সবার কাছে তাঁদের পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

জানা যায়, একদম শিশু বয়স থেকেই বিনোদন জগতে হেইডেনের পথচলা শুরু হয়েছিল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাত্র ১১ মাস বয়সে তিনি প্রথম একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। পরবর্তীতে জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘এ বাগস লাইফ-এ ডট নামের চরিত্রটিতে তিনি কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস-এর মতো সিনেমাসহ নানা টেলিভিশন প্রজেক্টে কাজ করার পর, ২০০৬ সালে ‘হিরোস সিরিজে ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর ‘ন্যাশভিল সিরিজে জুলিয়েট বার্নসের চরিত্রে রূপদান করে তিনি আরও প্রশংসিত হন। ছোটপর্দার পাশাপাশি রুপালি পর্দাতেও তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে ‘স্ক্রিম ৪ এবং ‘স্ক্রিম ৬ চলচ্চিত্রে কিরবি রিড চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে। এছাড়া, চলতি বছরেই মুক্তি পাওয়া ‘স্লিপওয়াকার নামের একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিনেমাতেও তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গেছে।

 

ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কিছু কঠিন সময় ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের সাবেক হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্লিচকোর সঙ্গে তাঁর একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, যার নাম রাখা হয় কায়া। তবে পরবর্তীতে তিনি মেয়ের সম্পূর্ণ অভিভাবকত্ব বা হেফাজত ক্লিচকোর হাতেই তুলে দিয়েছিলেন। সন্তান জন্মদানের পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মাতৃত্বকালীন বিষণ্নতা (পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন) এবং বিভিন্ন আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

 

চলতি বছরের মে মাসেই হেইডেন তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দিস ইজ মি: অ্যা রেকনিং প্রকাশ করেছিলেন। এই স্মৃতিকথায় তিনি তাঁর জীবনের সেই অন্ধকার সময়গুলো, মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা, বিষণ্নতা এবং আসক্তির জাল ছিন্ন করে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর দুঃসাহসিক গল্প বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন। এমন এক লড়াকু অভিনেত্রীর হঠাৎ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সহকর্মী, অনুরাগী ও বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর