advertisement
advertisement

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ৭ যুবক নিখোঁজ


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ৭:১০ পূর্বাহ্ণ
লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ৭ যুবক নিখোঁজ

advertisement

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাত যুবক। তাদের মধ্যে চারজন পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি ও রনসী গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূল থেকে জীবিতদের উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট রাতে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।

যাত্রাপথে নৌকাটি ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির বড় অংশ সাগরে ভেসে যায়। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা সাগরের মাঝখানে আটকা পড়েন।

টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় খাবার ও পানির অভাবে নৌকায় থাকা কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তাদের দাবি, অন্তত ১১ জন মারা গেছেন। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম জানান, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা আর সামনে এগোতে পারেননি। খাবার ও পানির সংকটে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে ভেসে থাকার কারণে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও পচন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তিনি মিশরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা গ্রামের রাজ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া (১৯), হযরত খানের ছেলে মামুন খান (২১), ইকরাম উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক খান (১৮), রনসী গ্রামের একলাছ উদ্দিনের ছেলে তালহা আহমদ (২৪) এবং পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিমের নাম জানা গেছে। তবে প্রতিবেদনে সাতজনের মধ্যে আরও দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় সুনামগঞ্জের সাত যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর