advertisement
advertisement

শিগগিরই গঠিত হচ্ছে ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’, কাজ চলছে গণমাধ্যম কমিশন নিয়েও


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
শিগগিরই গঠিত হচ্ছে ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’, কাজ চলছে গণমাধ্যম কমিশন নিয়েও

আজ সোমবার দুপুরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানছবি : পিএমও

advertisement

দেশের জনপ্রশাসন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব নজরুল ইসলাম খান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’-তে এই সভার আয়োজন করা হয়।

 

নজরুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকার যে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, সেই কমিশনকে যারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন, তাদের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা থাকলে তা আগে সমাধান করা প্রয়োজন। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর না করে কমিশন গঠন করা হলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। মূলত এসব কারণেই কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে ইনশাআল্লাহ, খুব দ্রুতই এই কমিশন আলোর মুখ দেখবে।

 

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার সেই অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে যায়নি; বরং সেই লক্ষ্যেই কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কিছু প্রাথমিক প্রক্রিয়া ও কাজ শুরু হয়েছে, যা ইতিমধ্যে দৃশ্যমান।

 

তিনি আরও বলেন, "প্রশাসনে এখনো আগের সরকারের প্রতি অনুগত বেশ কিছু ব্যক্তি রয়ে গেছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো থেকে তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে পরিচ্ছন্ন করার একটি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এই প্রক্রিয়াটি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।"

 

দেশ ও জাতির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়ে ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, প্রশাসনকে অতীতে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল, সেই বৃত্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দ্রুতই জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি কমিশন গঠন করা হবে, যা দেশবাসী শিগগিরই দেখতে পাবে।

 

অন্যদিকে, মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন, তারা সকলেই প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, এবারই প্রথম গণমাধ্যমে কোনো ধরনের সরকারি প্রভাব, চাপ বা নিয়ন্ত্রণ তারা অনুভব করছেন না। এই কারণে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। গণমাধ্যমের এই স্বাধীনতাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তারা যেমন কমিশন গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তেমনি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সাথেও এর পূর্ণ মিল রয়েছে।

 

তথ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে আলোচনা শুরু করা হয়েছিল এবং সেই কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কার্যকরী দল গঠন করা হবে, যারা একটি 'জাতীয় কর্মপরিকল্পনা' (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান)-এর খসড়া প্রস্তুত করবে। এরপর সেটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। সবাইকে সাথে নিয়েই এই কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

মতবিনিময় সভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার আগে সরকারের বিগত ১৮০ দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাফল্যের একটি পরিসংখ্যানমূলক চিত্র উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

 

এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আবদুল আউয়াল।

 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন, তথ্য ও সম্প্রচারসচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ প্রমুখ।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর