advertisement
advertisement

আটা-পাউরুটির দামে হতে পারে রেকর্ড ঊর্ধ্বগতি, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষণায় চরম খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস


প্রেক্ষিত বাংলাদেশ | প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
আটা-পাউরুটির দামে হতে পারে রেকর্ড ঊর্ধ্বগতি, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষণায় চরম খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস

advertisement

ইউরোপে চলমান ভয়াবহ দাবদাহ এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার অবিরাম সামরিক অভিযানের দ্বৈত প্রভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিত্যদিনের খাদ্যসামগ্রীর মূল্য আরও এক দফা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গমের ফলনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটার ফলে পাস্তা, আটা ও পাউরুটির মতো নিত্যব্যবহার্য খাবারগুলো ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'অক্সফোর্ড ইকোনমিকস'-এর নতুন একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই ভীতিকর ভবিষ্যতের কথা জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান বছরে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার একলাফে ১১ দশমিক ৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে এবং এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মূলত ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সরাসরি রোষানলে পড়েছে কৃষিজ উৎপাদন। বিগত কয়েক মাস যাবত চলা চরম খরা ও প্রখর রোদের কারণে গোটা ইউরোপের কৃষিখাত অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বেলজিয়ামে অবস্থিত শস্য ও তেলবীজ ব্যবসায়ীদের সংগঠন 'কোকেরাল' ইতিমধ্যে তাদের পূর্বনির্ধারিত বৈশ্বিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা অনেকটাই কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। এর পাশাপাশি জার্মানির মতো অন্যতম প্রধান শস্য উৎপাদনকারী দেশেও ফলন ৭ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট। এসব ঘটনার ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং জ্বালানি তেলের মূল্য চরম আকার ধারণ করেছে, যা প্রান্তিক কৃষকদের ফসল ফলানোর খরচকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

 

প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পাশাপাশি আজভ ও কৃষ্ণসাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্য রপ্তানিতে সৃষ্ট নতুন প্রতিবন্ধকতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সারা বিশ্বের মোট গম রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশই আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। কিন্তু বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ চেইনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, গমের আবাদ ব্যাপকভাবে সারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এবার আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম অন্তত ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত হু হু করে বেড়ে যেতে পারে। গমের এমন আকাশচুম্বী দাম প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পকে বড় ধরনের সংকটে ফেলবে, আর দিন শেষে যার চরম মূল্য চোকাতে হবে সাধারণ ক্রেতাদেরকেই।

 

বাজার বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে শস্যের দামের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রভাব একবারে না এসে পর্যায়ক্রমে খুচরা বাজারগুলোতে গিয়ে পড়বে। শাকসবজি ও ফলমূলের মতো সহজে পচনশীল কাঁচামালের দাম আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বিস্কুট, পাস্তা বা পাউরুটির মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলোর দাম বাড়তে হয়তো আরও ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে। যার অর্থ দাঁড়ায়, আগামী বছরের শুরু থেকেই মুদি বাজারের খরচ মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর অভাবনীয় এক চাপ নেমে আসতে পারে। সংবাদটির মূল সূত্র হিসেবে 'ইউরোনিউজ'-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর