শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও
ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত
ও হুমকি দেওয়ার মামলায় গত শুক্রবার গ্রেপ্তার হয়েছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। শনিবার
ঢাকার একটি আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ১ অক্টোবরের ওই ঘটনার সময় তিনি
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে মারধর ও ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
জামায়াতের ৭১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিদেশ সফর থেকে ফেরার দিন এই ঘটনা ঘটে।
১৯৫১ সালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জন্মগ্রহণ
করা আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন শুরু থেকেই নানা বৈপরীত্য ও অবস্থান বদলের কারণে
আলোচিত। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-২
আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বক্তব্য
দেওয়ার কারণে ১৯৯৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার তাঁকে বহিষ্কার করে বিএনপি। সর্বশেষ
২০২২ সালে এক টক শোতে বিএনপির ভিশন নেই এবং নেতাদের কর্মীদের জুতাপেটা করা উচিত—এমন মন্তব্যের জেরে
তিনি পঞ্চম ও চূড়ান্তভাবে বহিষ্কৃত হন।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির 'ডামি' নির্বাচনের
আগে ২০২৩ সালের জুনে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর
ছেলে সাব্বির জামানের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। এরপর বিভিন্ন
বক্তব্যে তিনি শেখ হাসিনাকে দশভুজা দেবীর সঙ্গে তুলনা করে প্রশংসা করেন এবং তারেক রহমানের
কড়া সমালোচনা করেন। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে
জামানত বাজেয়াপ্ত হয় তাঁর।
টক শোতে তাঁর আক্রমণাত্মক আচরণ ও বিতর্কিত
মন্তব্য বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছে। এক টক শোতে তিনি গুমের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন,
তারেক রহমানের মতো লোকদের জন্যই গুম-খুন সংস্কৃতি আসে। অন্য একটি অনুষ্ঠানে তিনি জোর
গলায় দাবি করেন যে, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও তারা কোনো
গণহত্যায় অংশ নেয়নি। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেই তিনি জামায়াতকে 'রগ কাটার দল'
আখ্যা দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের তাদের থেকে সাবধান থাকতে বলেছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ১৫ জুলাই এক
টক শোতে তিনি আন্দোলনকারীদের 'রাজাকারের সন্তান' এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী বলে আখ্যায়িত
করেছিলেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি সেই
জামায়াতেই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তাঁর দাবি, জামায়াতের কার্যক্রমে অনেক পরিবর্তন
আসায় তিনি সজ্ঞানেই যোগ দিয়েছেন। তবে জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের প্রশ্ন
তুলেছেন যে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং স্বৈরাচারের পক্ষে সাফাই গাওয়া
আখতারুজ্জামানকে কেন বিচারের আওতায় আনা হয়নি এবং তাঁকে জামায়াত আশ্রয় দিয়েছে কি না।