নাক ও দুই গালজুড়ে প্রজাপতির মতো ছড়িয়ে থাকা
লালচে দাগ বা ফুসকুড়িকে অনেকেই ভুল করে সাধারণ অ্যালার্জি, কসমেটিকসের রিয়্যাকশন বা
রোদে পোড়া দাগ ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যালার র্যাশ’ বা ‘বাটারফ্লাই
র্যাশ’ নামে পরিচিত এই
লক্ষণটি এতটা সরল নয়।
রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ পপুলার ডায়াগনস্টিক
সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এই বাটারফ্লাই
র্যাশের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমেটোসাস’ (এসএলই)। এটি এক
ধরনের অটোইমিউন রোগ, যার ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে নিজ শরীরের সুস্থ কোষ ও
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপরই হামলা চালায়। এর প্রভাব শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি
মস্তিষ্ক, ফুসফুস, কিডনি, অস্থিসন্ধি এবং রক্তের কোষেও আঘাত হানতে পারে।
অবশ্য মুখে প্রজাপতির মতো দাগ থাকলেই যে রোগী
লুপাসে আক্রান্ত, বিষয়টি এমনও নয়। ব্রন, সেবোরিক বা অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস, রোসেসিয়া,
সূর্যের আলোর প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, হার্ট ভালভের রোগ অথবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এমন লালচে দাগ হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন:
দাগের পাশাপাশি যদি রোগীর দীর্ঘদিন ধরে জয়েন্টে
ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অকারণে জ্বর, মুখে ঘা, চুল পড়ে যাওয়া, হাত-পা ফুলে যাওয়া,
প্রস্রাবের সমস্যা বা রোদে গেলে ত্বকের জ্বালাপোড়া বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়,
তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক। রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসকেরা
সাধারণত রক্তের কিছু পরীক্ষা, যেমন—অ্যান্টি ডিএস ডিএনএ, এএনএ এবং কমপ্লিমেন্ট
লেভেল ইত্যাদি করানোর নির্দেশ দেন।
চিকিৎসা পদ্ধতি:
র্যাশটি কী কারণে হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি
করেই এর চিকিৎসা নির্ধারিত হয়। লুপাস শনাক্ত হলে রোগের মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধের
ডোজ নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত
জরুরি। তাই বাইরে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা, সানস্ক্রিন লাগানো এবং দীর্ঘক্ষণ
রোদে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনোভাবেই চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া স্টেরয়েড বা অন্য
কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ
নিয়ন্ত্রণে রেখে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়।