আগামী
২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে
১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল মাইলফলকে পৌঁছে দেওয়ার এক বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে
সরকার। এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করা এবং দেশের বিভিন্ন খাতের সংস্কার ও সুষম উন্নয়নের উদ্দেশ্যে
সরকার ‘পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)’ নামে একটি নতুন রূপরেখা জনসমক্ষে
প্রকাশ করেছে।
গতকাল
বুধবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী
কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সংক্রান্ত আলোচনা হয় বলে আমাদের নিশ্চিত করা
হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এটিই ছিল প্রথম একনেক
সভা। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
এই
বৈঠকে দেশের উন্নয়নের জন্য মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের
জন্য মোট ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।
সরকারের
এই নতুন কৌশলের ওপর ভিত্তি করে এখন থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্লাস্টারভিত্তিক
বা গুচ্ছভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, ইতোমধ্যেই ৪১টি মন্ত্রণালয় তাদের
নিজ নিজ পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে
পর্যালোচনার পরই একটি চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের অবকাঠামো
বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের নেতৃত্বে একটি কমিটি বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
এই নতুন কাঠামোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর ফলে এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে
এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনেই যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
দেশের
সংস্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরি এই ‘পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো’টি চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা
কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এ বিষয়ে জিইডি সদস্য ড. মনজুর হোসেন এক ব্রিফিংয়ে
আমাদের প্রতিবেদককে জানান যে, এটি কেবল একটি কৌশলগত কাঠামো নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক
উন্নয়নের জন্য একটি গতিশীল রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।
তিনি
আরও বলেন, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি 'স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন ম্যাট্রিক্স' তৈরি
করা হয়েছে, যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার আগামী ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫
বছরে বাস্তবায়নের জন্য তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা কার্যক্রমগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের নিজ নিজ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটুকু
হলো, তা নিজেরাই মূল্যায়ন করার সুযোগ পাবে। সর্বোপরি, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের
সঙ্গে পুরোপুরি মিল রেখেই এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাটি হাতে নেওয়া হয়েছে।