মধ্যপ্রাচ্যে
চলমান সংঘাত বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসায় এবং বিশ্বজুড়ে
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বৃদ্ধি
পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
মঙ্গলবার
(১৮ আগস্ট) তেলের বাজারে 'ব্রেন্ট ক্রুড' ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা শূন্য
দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত সোমবারও ব্রেন্ট
ক্রুডের এই দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা গত ৩০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত
হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তেলের দাম বাড়ার এই তথ্য নিশ্চিত
করা হয়েছে।
একই
সময়ে বাজারে 'ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট' বা সংক্ষেপে 'ডব্লিউটিআই' ক্রুড ফিউচারসের
দামও বেড়েছে। এটি ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫ দশমিক ২৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
এমনকি মঙ্গলবার দিনের শুরুর ভাগে এর দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৮৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছিল,
যা গত ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
মূলত
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কোনো সফল পরিণতি না হওয়ার কারণেই বিশ্ববাজারে
তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও আক্রমণাত্মক নীতি অবলম্বনের
ঘোষণা দেওয়া এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়াতে
অস্বীকৃতি জানানোর ফলে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে।
এ
প্রসঙ্গে ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুভ্র সরকার তার বিশ্লেষণে
জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি সফল না হয়, তবে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে
এবং আগামী ২০২৭ সালের জ্বালানি তেলের দামের পূর্বাভাসের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
তার ধারণা মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে এই চলমান অনিশ্চয়তা যদি বজায় থাকে, তবে স্বল্পমেয়াদে
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে
পারে।