গাজীপুরস্থ
বিআরটিসির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তারা সবাই গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এবং পেশাগতভাবে
তারা প্রত্যেকেই ছাত্রী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় এই নারীরা একত্রিত
হয়েছিলেন নারীদের জন্য বিশেষায়িত একটি বাস সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
এই আয়োজনে তাদের যোগ দেওয়ার মূল কারণ হলো, সম্পূর্ণ নতুন এই বাসগুলোর চালক এবং সহকারী—দুটো
দায়িত্বেই থাকবেন নারীরা এবং এর যাত্রীরাও হবেন শুধুই নারী।
সেখানে
উপস্থিত ছাত্রীদের মাঝে একজন ছিলেন নাজমুন ইসলাম, যিনি গাজীপুরের বিজিআইএফটি ইনস্টিটিউট
অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
তিনি বলেন, "সাধারণত গণপরিবহনগুলোতে যাতায়াতের সময় নারীদের অনেক ক্ষেত্রেই নানা
ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির মুখে পড়তে হয়। কিন্তু যেহেতু এই বাসগুলো কেবল নারীদের জন্যই
এবং এর পরিচালনাও নারীরাই করবেন, তাই সেই ভীতি আর থাকবে না। আমরা এখন থেকে নিশ্চিন্তে
বাসে যাতায়াত করতে পারব।"
নিয়মিত
বাসে যাতায়াত করেন জানিয়ে নাজমুন আরও বলেন, "অনেক সময় দেখা যায় সকালবেলা বাসে
তিল ধারণের জায়গা থাকে না। আবার অনেক বাস নারীদের তুলতেও অনাগ্রহ দেখায়। এর ফলে ঠিক
সময়ে ক্লাস বা অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।" তার অভিমত, এই বিশেষায়িত বাস সার্ভিস
শুধু রাজধানী ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ঢাকার বাইরেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন এবং
সেই সাথে বাসের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা উচিত।
মঙ্গলবার
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি ট্রাক ডিপো চত্বরে নারীদের জন্য এই বিশেষ 'পিংক বাস'
বা মহিলা বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী
শেখ রবিউল আলম।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় শেখ রবিউল আলম বলেন, "সম্পূর্ণ নারীদের দ্বারাই পরিচালিত
এমন একটি বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা আমাদের সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
ছিল। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল নারীরা যেন বাসে ওঠার আগে এবং পরে সম্পূর্ণ নারীবান্ধব
একটি পরিবেশ পান। অনেক সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় নারীদের নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির
মুখে পড়তে হয়, বাসের ভেতরের পরিবেশও অস্বস্তিকর থাকে এবং বাস থেকে নামার পরও তারা নিরাপদ
থাকেন না বা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। নারীদের এই নিরাপদ যাতায়াতের কথা ভেবেই একটি নারীবান্ধব
পরিবহন ব্যবস্থা গড়ার এই অঙ্গীকার করা হয়েছিল।"
মন্ত্রী
আরও জানান, আপাতত ঢাকার ভেতরের ১০টি আলাদা রুটে ৯টি দোতলা এবং ১টি একতলা বাস চলাচল
করবে। এর বাইরে বগুড়ায় দুটি রুটে চলবে দুটি দোতলা বাস এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে একটি
রুটে দুটি দোতলা বাস নামানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এই তিন জেলার মোট ১৩৪টি স্টপেজে বাসগুলো
থামবে।
ভবিষ্যৎ
পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "পরবর্তীতে এই বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে
এবং রুটও সম্প্রসারণ করা হবে। অচিরেই ২০০টি ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি বাস দেশে আসবে,
যার মধ্যে ১০০টি বাসই আলাদাভাবে বরাদ্দ থাকবে নারীদের জন্য। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য
বিভাগেও এই নারী বাস সার্ভিসটি চালু করা হবে।"
এই
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বর্তমান প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক
বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন।
এছাড়া পুরো অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবদুল
লতিফ মোল্লা।