প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ
১০০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বর্ধিত বেতনকাঠামো দুটি পর্যায়ে
বাস্তবায়িত হবে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছর শুধুমাত্র মূল বেতন বৃদ্ধি
পাবে এবং এর পরের বছর অর্থাৎ দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো
কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিব কমিটির সকল সদস্য
নিজেদের স্বাক্ষর প্রদান করেছেন।
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে
‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ নামের একটি ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের
বিবরণ রয়েছে। এই বইটির ‘নবম পে স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক একটি উপ-শিরোনামে
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। প্রকাশিত ওই ই-বুকে উল্লেখ
করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান বাবদ ৮৯ হাজার
৮৩৬ কোটি টাকা এবং এর সাথে পেনশন ও গ্র্যাচুইটি মিলিয়ে সর্বমোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪
কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পেরিয়ে যাওয়ার পর, ২০২৫ সালের
২৭ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৩ সদস্যের ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ গঠন করেছিল। সাবেক
অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়।
জাকির আহমেদ খান কমিশনের ওই প্রতিবেদনে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত
রেখেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ
করা হয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকার পরিবর্তে
২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ
৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত এই নতুন বেতনকাঠামোটি বাস্তবায়নের
রূপরেখা প্রণয়নে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট
একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত
রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব,
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল
স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক।
এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন
যে, ১ জুলাই থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন এই বেতনকাঠামো কার্যকর করা হবে। নিজের বাজেট
বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, বিগত প্রায় ১১ বছর যাবত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই
স্কেলে বেতন ও ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মানুষের
জীবনযাত্রার ব্যয়ভার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণেই, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে সরকারি কর্মকর্তা ও
কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে ওই ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।