প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ ক্ষেত্রে ঢাকার পক্ষ থেকে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং সফরের উপযোগী অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভারতকে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শরীফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
শহীদুল করিম বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া, হাদির হত্যা মামলার অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ এবং সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা—এই বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে। এ নীতির ভিত্তি হবে সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধা।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত।
তবে দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।