ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে গতকাল অজিদের দ্বিতীয়
ইনিংসে জোড়া আঘাত হেনেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট
করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে দ্রুতই সাজঘরে পাঠান তিনি। এরপর ৩৮তম ওভারে মেহেদী
হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথ আউট হলে ম্যাচে টাইগারদের
আধিপত্য পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১২২ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে যায়
স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের পথে এখন একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্যামেরন
গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। দলের বিপর্যয়ে হাল ধরে চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা ১৫.৪ ওভার
ক্রিজে টিকে থেকে অবিচ্ছিন্ন ৩৯ রান যোগ করেছেন। এর ফলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেট
হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দুই ইনিংসের হিসাব মিলিয়ে স্বাগতিকরা এখনো
বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
এর আগে, তৃতীয় দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান
নিয়ে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়ে
যায় সফরকারীরা। দিনের শুরুতে বাকি চারটি উইকেটই তুলে নেন ডানহাতি অজি পেসার জস হ্যাজলউড।
এই চার উইকেট শিকারের মাধ্যমে তিনি নবম অস্ট্রেলীয় বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০
উইকেটের অভিজাত মাইলফলক স্পর্শ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ
দুর্দান্ত ৬৫ রানের একটি ইনিংস খেলেন, যার ওপর ভর করে দলীয় সংগ্রহ চারশ রানের কোটা
পার করতে সক্ষম হয়।
প্রথম ইনিংসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দ্বিতীয়
ইনিংসেও অজি ব্যাটারদের কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেন হাসান মাহমুদ। দলীয় মাত্র ৪ রানের
মাথায় জ্যাক ওয়েদারল্ড এবং ৩৭ রানের সময় ট্রাভিস হেডকে সরাসরি বোল্ড করে দেন তিনি।
এরপর ২০তম ওভারে স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মার্নাস
লাবুশেন। অজি শিবিরে চতুর্থ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঘাতটি হানেন মিরাজ। ভয়ংকর হয়ে
ওঠা স্টিভ স্মিথকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ লুফে নিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি। স্মিথের এই
বিদায়ের পরই মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
আউট হওয়ার আগে ক্যামেরন গ্রিনের সাথে মিলে
৪৯ রানের একটি মূল্যবান জুটি গড়েছিলেন স্মিথ। নিজের ব্যক্তিগত ইনিংসে তিনি ৪৪ রান সংগ্রহ
করেন, যেখানে প্রথম ইনিংসেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রান এসেছিল তার ব্যাট থেকেই। তাই
স্মিথের উইকেটটি তুলে নেওয়ার পর মিরাজদের উল্লাসটা একটু বেশিই ছিল। তবে তৃতীয় সেশনের
শেষ ভাগে গ্রিন এবং ক্যারি মিলে টাইগার বোলারদের কিছুটা হতাশ করেছেন। এই টেস্টের চূড়ান্ত
ফল কী হতে যাচ্ছে, তা অনেকাংশেই এখন ক্রিজে থাকা এই দুই ব্যাটারের ওপর নির্ভর করছে।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ
দলের হয়ে কথা বলতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেখানে তিনি জানান যে, তাদের মূল লক্ষ্য
স্বাগতিকদের দ্রুত অলআউট করে দেওয়া। মিরাজ বলেন, অস্ট্রেলিয়াকে যত কম রানে আটকে রাখা
যাবে, দলের জন্য ততই মঙ্গল। ম্যাচে এখনো দুই দিনের খেলা বাকি থাকায় সামনের পথচলায় দ্রুত
তিনটি উইকেট তুলে নেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। কারণ অজি দলের
বাকিরাও ভালো ব্যাটিং করতে সক্ষম। উইকেটের কন্ডিশন সময়ের সাথে সাথে আরও ভালো হচ্ছে
উল্লেখ করে মিরাজ জানান, তারা বড় কোনো লক্ষ্যের দিকে না তাকিয়ে ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে
যাওয়ার কৌশল নিয়েছেন।
অজি ব্যাটারদের আউট করা মোটেও সহজ কাজ ছিল
না বলে স্বীকার করেন এই স্পিনার। তিনি জানান, যে কয়টি উইকেট তারা পেয়েছেন, তার জন্য
বোলারদের প্রচুর ঘাম ঝরাতে হয়েছে। আপাতত রান আটকে রাখার দিকেই তারা বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
এই রান তোলার গতির মধ্যেই যদি তারা আরও তিন-চারটি উইকেট তুলে নিতে পারেন, তবে ম্যাচের
পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং জয়ের লক্ষ্যমাত্রাও খুব একটা বড় হবে
না। বিশ্বমানের ব্যাটার স্টিভ স্মিথের উইকেট পাওয়া প্রসঙ্গে মিরাজ নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ
করে বলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম দারুণ এক মুহূর্ত। স্মিথকে আউট করার জন্য তিনি
খুব সাধারণ পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। তাকে সহজে রান করার সুযোগ না দিয়ে ধারাবাহিকভাবে
সঠিক জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করেছেন এবং লাইন ও লেংথে বৈচিত্র্য এনেই এই সফলতা পেয়েছেন।